চলতি বছর জার্মানিতে তীব্র খরা ও প্রচণ্ড তাপমাত্রার কারণে কৃষিখাত ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। দেশটির কৃষক সংগঠন একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে শস্য উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪১ দশমিক ৯ মিলিয়ন টনে নামতে পারে। এ পরিমাণ উৎপাদন ২০২৫ সালের ৪৫ দশমিক ২ মিলিয়ন টনের চেয়ে কম হলেও, ২০২৪ সালের ৩৯ মিলিয়ন টনের চেয়ে কিছুটা বেশি।
সংগঠনটি জানিয়েছে, বেড়েছে খরার প্রকোপ আর জুনের শেষার্ধে বাড়তি তাপমাত্রার কারণে অনেক অঞ্চলে ফসল দ্রুত পেকে গেছে। এর ফলে শস্য উৎপাদনের গড় পরিমাণ কমে গেছে। সব ধরনের শস্যেই প্রতি হেক্টর উৎপাদন প্রায় ৯ শতাংশ কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৭ টনের আশেপাশে।
কৃষক সংগঠনের সভাপতি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদনে বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিম জার্মানিতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য গমে উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ৯ শতাংশ কমেছে এবং মোট উৎপাদন ৭ শতাংশ কমে ২০ দশমিক ৯ মিলিয়ন টনে নামতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অপরদিকে, কলজার উৎপাদন প্রতি হেক্টরে ২০ শতাংশ কমেছে; এতে কীটপতঙ্গের আক্রমণও ভূমিকা রেখেছে।
সংকটে পড়া অনেক খামারি কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। কৃষক সংগঠনের প্রধান মন্তব্য করেছেন, কৃষকদের যথাসময়ে পরবর্তী মৌসুমে বীজ, ডিজেল, সার এবং কীটনাশকের জন্য নগদ অর্থ ছাড়া উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে, পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে আগামী বছরের শস্য উৎপাদন নিশ্চিত করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তাপপ্রবাহের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ফল—আপেলের ক্ষেত্রেও। সরকারের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, চলতি বছর ৯ লাখ ৩৪ হাজার টন আপেল সংগ্রহ হতে পারে, যা গত দশ বছরের গড়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কম। গত বছরের তুলনায় এ পতনের হার ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ, অর্থাৎ ২ লাখ ৪ হাজার টন কম উৎপাদন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, এবারের গরমের কারণে অনেক আপেল আগেভাগেই পড়ে গেছে, অনেক ফল আকারে ছোট থেকেছে, আবার কিছু ফল সূর্যদগ্ধ হয়েছে। কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির কারণেও ফলের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
