ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে বনাঞ্চলে ঘন ঝোপঝাড় ও শুকনো গাছপালা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় দাবানলের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি স্থানীয় চারণভূমি ও পশুপালন কার্যক্রম কমে যাওয়ায় এই সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছাগল ও ভেড়ার মতো পশু দিয়ে ঝোপঝাড় খাওয়ানোর প্রথাগত পদ্ধতি ফের চালু করলে দাবানলের বিস্তার অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোর বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে ঘন আগাছার কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ছাগল ও ভেড়া এসব আগাছা ও শুকনা লতা-পাতা খেয়ে ফেলে, ফলে সহজে জ্বলতে পারে—এমন গাছপালার পরিমাণ কমে আসে। এতে স্বাভাবিকভাবেই আগুনের বিস্তার হ্রাস পায় এবং প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় আগুন রোধী প্রতিরোধক রেখা। ফলে পরিচালিত দমকল কার্যক্রমও সহজ হয়।

ইতোমধ্যে স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগালসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগের সহযোগিতায় পশুপালকদের অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। এতে ছাগল, ভেড়া বা গরুর পাল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চরানো উৎসাহিত হচ্ছে। এই পদ্ধতি প্রচলিত যন্ত্রনির্ভর জমি পরিষ্কারের তুলনায় পরিবেশবান্ধব ও তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র পশু চরানোয় দাবানল পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এটি ভূমির নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা, যান্ত্রিক পরিষ্কার ও নিয়ন্ত্রিতভাবে আগুন লাগানোর অন্যান্য কৌশলের সঙ্গে মিলিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।