বেলজিয়ামে ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, বিশেষ করে যাঁরা কখনো ধুমপান করেননি এবং নারীদের মধ্যে আক্রান্তের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব ফুসফুস ক্যানসার দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে দেশটির ক্যানসার ফাউন্ডেশন জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীদের মধ্যে এ রোগে শনাক্তের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে।

বেলজিয়ান ক্যানসার রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে বছরে নতুন ফুসফুস ক্যানসার রোগীর সংখ্যা ছিল ৯,৪৮৭। এই সংখ্যা ২০৩৫ সালে দাঁড়াতে পারে ১১,৪২৯-এ।

পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এ রোগের বার্ষিক বৃদ্ধি অনেক বেশি। গেল দুই দশকে নারীদের মধ্যে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, সেখানে পুরুষদের মধ্যে এই হার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ঝুঁকি এখনো সবচেয়ে প্রধান হিসাবে চিহ্নিত। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ফুসফুস ক্যানসারের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রই তামাক ব্যবহারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। এ কারণে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তামাকবিরোধী কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে নতুন রোগীর সংখ্যা কমাতে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হিসেবে দেখছেন।

তবে এক্ষেত্রে শুধু ধুমপানকারীরাই নয়, বরং অনধুমপায়ীরাও ঝুঁকির বাইরে নন। কর্মক্ষেত্র বা পরিবেশে বিভিন্ন ক্যানসারসৃষ্টিকর পদার্থের সংস্পর্শ, পরিবেশ দূষণ, এমনকি রাডনের মতো গ্যাসও আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ায়।

উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হলো, ৬৫ শতাংশ ফুসফুস ক্যানসার রোগীই যখন রোগ শনাক্ত হয়, তখন তাঁরা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের লক্ষণ প্রায়ই অস্পষ্ট থাকে।

তবে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতিও রয়েছে। নতুন চিকিৎসা কৌশলের ফলে নারীদের মধ্যে ফুসফুস ক্যানসারের পাঁচ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার হার ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ওই হার ২৭ শতাংশেই স্থিত রয়েছে।