চাঁদ প্রতিবছর গড়ে ৩.৮ সেন্টিমিটার হারে পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। যদিও মানবজীবনে এ পরিবর্তন সহজে টের পাওয়া যায় না, ভবিষ্যতে কয়েক শত কোটি বছরে পৃথিবীর চেহারা ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যের এই মহাজাগতিক পারস্পরিক সম্পর্কের ফলে দিনের দৈর্ঘ্য বাড়বে এবং কিছু চমকপ্রদ মহাকাশীয় ঘটনা এক সময় হারিয়ে যাবে।
নাসার অ্যাপোলো মিশনের সময় চাঁদে স্থাপিত বিশেষ প্রতিফলকগুলো ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে চাঁদের সরে যাওয়ার হার নির্ধারণ করতে সক্ষম হচ্ছেন। সাম্প্রতিক পরিমাপে দেখা যায়, চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রতি বছর যতটা দূরে যাচ্ছে, তা মানুষের নখের বৃদ্ধির হারের কাছাকাছি। এর ফলে পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে ঘোরার শক্তি কিছুটা হারাচ্ছে এবং প্রত্যেক ১০০ বছরে দিনে ১ থেকে ২ মিলিসেকেন্ড পর্যন্ত সময় যুক্ত হচ্ছে। ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের বিচারে এটি অত্যন্ত বড় পরিবর্তন; যেমন, একশ কোটিরও বেশি বছর আগে দিনের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ১৯ ঘণ্টা, অথচ আগামীতে তা ২৪ ঘণ্টারও বেশি হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের দূরে সরে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সূর্যগ্রহণে। বর্তমানে পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদ একই আকারের দেখায় এবং সম্পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সম্ভব হয়। কিন্তু আনুমানিক ৬০০ মিলিয়ন বছর পর চাঁদ আর সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে রাখতে পারবে না; তখন আকাশে দেখা যাবে শুধু বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন, এসব পরিবর্তন মানুষের জীবদ্দশায় ঘটবে না—এগুলো হলো কোটি কোটি বছরে অবস্থান্তরের ফল, তাই জরুরি কোনো উদ্বেগের কারণ নেই।
