ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাসে পশ্চিম ইউরোপে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গরম রেকর্ড হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এ সময়ের উষ্ণতা শিল্পবিপ্লব-পূর্ববর্তী গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ভূমি ও সমুদ্র—উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ উষ্ণতার রেকর্ড একই সময়ে সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান এ তাপমাত্রা শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের জীবন, বাস্তুতন্ত্র এবং অবকাঠামোর ওপর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রসহ পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে জুন মাসে প্রচণ্ড গরমের ফলে দীর্ঘমেয়াদি রেকর্ড ভেঙে গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহে ইবেরীয় উপদ্বীপ, দক্ষিণ ফ্রান্স ও পূর্ব ইউরোপজুড়ে খরা আরও প্রকট হয়েছে। এতে, অরণ্য দাবানল ও নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অভিযোজিত জলবায়ুবিষয়ক ইউরোপীয় বিজ্ঞান প্যানেল জানিয়েছে, জলবায়ু নিরপেক্ষ কৃষি নিশ্চিত করতে ও নির্গমন কমানোর পদক্ষেপ আরও জোরদার করা দরকার।

কপারনিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে বরফমুক্ত সমুদ্র ও মহাসাগরগুলোর পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রাও রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতার বড় কারণ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনো পরিস্থিতি। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, দিন দিন বেড়ে চলা উষ্ণতা এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর পর তারা নতুন কিছু নীতিমালা গ্রহণের জন্য কাজ শুরু করেছে, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজিত থাকা যায়।