বেলজিয়ামে পশু অধিকারকর্মীরা কিছু নির্দিষ্ট জাতের কুকুর ও বিড়ালের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্রাসেলসে 'গাইয়া' নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নতুন এক প্রচারণা শুরু করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা জনপ্রিয়তার কারণে অতি মাত্রায় প্রজনন করানো কিছু জাতের কুকুর ও বিড়াল দীর্ঘমেয়াদি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ছে।
সংস্থাটি বিশেষভাবে ফরাসি বুলডগ কুকুর ও পার্সিয়ান বিড়ালের জাতের কথা উল্লেখ করেছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এসব পোষা প্রাণীর সংক্ষিপ্ত নাক, ভাঁজযুক্ত কান কিংবা বেশি ভাঁজযুক্ত চামড়া ইত্যাদি কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট, চোখের রোগ এবং হাঁড়ের বা গাঁটে নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে।
প্রচারণার অংশ হিসেবে গাইয়া সংস্থা নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রাণী কেনার আগে সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য জানার পরামর্শ দিয়েছে। পশু চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের জাতের প্রাণীদের ক্ষেত্রে শ্বাসনালী সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি দুর্বলতা, চলাফেরায় অসুবিধা ও চর্মরোগের মতো অসুস্থতা বেশি দেখা যায়। ফলে প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনমান নষ্ট হচ্ছে এবং তাদের গড় আয়ুষ্কালও কমে যাচ্ছে।
এদিকে বেলজিয়ামের ফ্লেমিশ অঞ্চলে স্কটিশ ফল্ড জাতের বিড়ালের ব্যবসা ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ এসব বিড়ালের মধ্যে জিনগত রোগপ্রবণতা দেখা যায়। এসংক্রান্ত ঘোষণা দিয়ে গাইয়া সংস্থা বলেছে, প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা নয়, তাদের স্বাস্থ্য বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। সচেতন ও দায়িত্বশীলভাবে প্রাণী পালনের জন্য জনগণকে নির্দেশনা দিচ্ছে সংস্থাটি।
