দীর্ঘদিন ধরে বুলগেরিয়া ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক জার্মানিতে কাজ করতে এলেও, গত দুই বছরে এই প্রবণতায় বড় ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে। ২০২৩ সালে যেখানে এই অভিবাসনের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৬৩ হাজার, ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ২ লাখ ৩৫ হাজারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ, যেমন বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়া থেকে আগত শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
জার্মান অর্থনৈতিক ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ বলছে, গত বছর দেশটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের সংখ্যা বেড়েছে ৪২ হাজারে, অন্যদিকে ৪৫ হাজার মানুষ জার্মানি ছেড়েছেন। পূর্ব ইউরোপ ও জার্মানির মধ্যে মজুরি ব্যবধান কমে আসা, এসব দেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জীবনমান উন্নতি এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তন—সবকিছুই এই ঝুঁটি কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এতে কৃষি, পরিবহন, উৎপাদন, নির্মাণ এবং সেবা খাতে শ্রমিক সংকট স্পষ্টভাবে দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্য মতে, ইউরোপের বাইরের দেশ থেকেও অভিবাসী আসার হার কমে যাচ্ছে। সিরিয়া থেকে নতুন অভিবাসীর সংখ্যা গত দুই বছরে ৭৮ শতাংশ কমেছে, যার বড় কারণ ওই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই সময়ে, আফগানিস্তান ও তুরস্ক থেকেও নতুন আসা শ্রমিকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে।
তবে ইউক্রেন থেকে বিশেষ সুবিধার আওতায় ২ বছরে ২ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ জার্মানিতে ঢুকেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, পূর্ব ইউরোপ ও বলকান অঞ্চল থেকে আগের মতো শ্রমিক আসা কমে গেলে জার্মানিকে দক্ষ জনবল আকৃষ্ট করতে নতুন আইন ও ভিসায় আরও সহজ শর্ত চালু করতে হতে পারে।
