বেলজিয়ামে পথচারী ও সাইক্লিষ্টদের জড়িত সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ীদের ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভায়াস ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে প্রতি এক হাজার ছয়জন পথচারীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ সড়ক দুর্ঘটনার পর দায়ীর পলায়নের শিকার হন। সে বছর মোট পথচারীদুর্ঘটনার চতুর্থাংশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। দুই বছর আগে এ হার ছিল পাঁচ ভাগের এক ভাগ। পৃথকভাবে দেখা গেছে, পথচারীদের ক্ষেত্রেই এমন ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাইক্লিষ্ট ও বৈদ্যুতিক স্কুটার ব্যবহারকারীরাও এই ধরনের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ২০২৫ সালে এক হাজার আট শত উনিশজন সাইক্লিষ্ট, ১৫ শতাংশ বৈদ্যুতিক স্কুটারচালক এবং ১২ শতাংশ মোটরসাইকেলচালক নিজেদের এমন দুর্ঘটনার মুখোমুখি দেখতে পান। গত বছর মোট ৪৮১৪টি দুর্ঘটনার পর দায়ী ব্যক্তি পালিয়ে যান, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০০টি বেশি। গত দশ বছরে এ ধরনের ঘটনার পরিমাণ ৮ শতাংশ বেড়েছে।

তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, পালিয়ে যাওয়া চালকদের শনাক্ত করার হারও কিছুটা বেড়েছে। পুলিশ ও বেলজিয়াম কমন গ্যারান্টি ফান্ডের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দায়ীদের ৮৫ শতাংশকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যেখানে ২০১৬ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ। ফেডারেল পরিবহনমন্ত্রী জঁ-লুক ক্রুক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের সড়ক নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনায় পলায়নের ঘটনা কমিয়ে আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবে সরকার। এক্ষেত্রে ভায়াস ইনস্টিটিউট নতুন এক গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে এসব পলায়নের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হবে।