চলতি মৌসুমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে গ্রিসে পশ্চিম নাইল ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা সর্বাধিক দেখা যাচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মশার মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়া এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

গত এক সপ্তাহেই নতুন করে ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরের বসন্ত থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৬৫ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৪ জনের জটিল স্নায়ুবৈকল্য লক্ষণ দেখা গেছে।

এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, প্রাণহানির বেশিরভাগ ঘটনাই ৬৫ বছর কিংবা তার বেশি বয়সী, এবং গুরুতর স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঘটেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব গুরুতর রোগী শনাক্ত হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে সংক্রমণের সংখ্যাটি তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তাদের মতে, স্নায়বিক উপসর্গ যুক্ত একজন রোগী শনাক্তের পেছনে গড়ে অন্তত ১৪০ জন ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।

গ্রিসের আটিকা, থেসালিয়া ও মধ্য মেসিডোনিয়া অঞ্চলসহ মোট ২৫টি পৌরসভায় সংক্রমণের ঘটনা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক সংক্রমণ দেখা গেছে আটিকা অঞ্চলে।

ইউরোপীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে পশ্চিম নাইল ভাইরাস ইতালি, রোমানিয়া, ফ্রান্স, উত্তর মেসিডোনিয়া, স্পেন ও জার্মানিসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশে শনাক্ত হয়েছে।

এ পর্যন্ত গ্রিসে আক্রান্ত ৬৫ জনের মধ্যে ২০ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জন সাধারণ ওয়ার্ড ও আটজন আইসিইউতে আছেন। বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।