অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার মাত্রা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে, আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কেমন বাড়তে পারে তা নির্ভরযোগ্যভাবে অনুমান করা সম্ভব। এ গবেষণা বলছে, সরকারের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে এ সময়ে। তবে এই পূর্বাভাসক্ষমতা আগামী দিনে কমে আসতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।
নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি বলছে, বরফ গলার বর্তমান হার সঠিকভাবে মডেল করা গেলে, ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ব্যাপারে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেলের (আইপিসিসি) তথ্য মতে, অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তরের বড় অংশ ধ্বসে পড়লে শতাব্দীর শেষে বিশ্বে সমুদ্রপৃষ্ঠ দুই মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় এক চতুর্থাংশ বাড়িঘর প্লাবিত হতে পারে। পাশাপাশি, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার কিছু স্থানের বাসযোগ্যতাও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শতাব্দীর শেষের দিকে বরফ গলার প্রক্রিয়া দ্রুত ও অপ্রত্যাশিতভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, এতে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের নির্ভরযোগ্যতা কমে যাবে। গবেষকরা মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাসের তথ্য কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও কার্যকর বৈশ্বিক নীতিমালা তৈরি করা এবং জোরালো নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
