বেলজিয়ামে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের স্থায়ী চাকরিতে প্রবেশের হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা অ্যাসার্টার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে স্থায়ী কর্মচুক্তির মাত্র ০.৪৯ শতাংশ ২৫ বছর বয়সী বা তার চেয়ে কম কর্মীদের দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ০.৭৭ শতাংশ, আর গত বছর ছিল ০.৬০ শতাংশ। অন্যান্য বয়সের কর্মীদের মধ্যেও কিছুটা কমতি দেখা গেলেও, ২৫ বছর ও তার চেয়ে কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এই পতন সবচেয়ে স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের এই সংকটের পেছনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি ও শক্তির দামের অস্থিরতাসহ একাধিক কারণ রয়েছে। পাশাপাশি, দ্রুতগতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারও তরুণদের জন্য প্রবেশ পর্যায়ের অনেক চাকরি সীমিত করে ফেলছে, কারণ এসব কাজের বড় অংশই বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে ২৫ বছর বা কম বয়সী তরুণ কর্মীদের গড় মাসিক মোট আয় ২২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকেরা চাকরির শুরুতে গড়ে মাসে ৩ হাজার ৮৪ ইউরো বেতন পাচ্ছেন। তবে, স্নাতক পর্যায়ের ডিগ্রি থাকাদের আয় যেখানে অন্যদের তুলনায় গড়ে ৬৮৭ ইউরো বেশি, সেখানে তারা এখনো শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পেতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।

এ গবেষণা ৩০ হাজারের বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৪ লাখ ৫০ হাজার কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান।