বেলজিয়াম ক্যান্সার ফাউন্ডেশন সম্প্রতি জানিয়েছে, দেশটিতে ফুসফুস ক্যান্সারের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, বিশেষত ধূমপান করেন না এমন ব্যক্তি এবং নারীদের মধ্যে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নতুন ফুসফুস ক্যান্সার শনাক্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৮৭ হলেও ২০৩৫ সালে তা বেড়ে ১১ হাজার ৪২৯-এ পৌঁছাতে পারে।

আরও দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো বড় পরিবর্তন না থাকলেও নারীদের মধ্যে সংক্রমণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। ২০০৪ সালে নারীদের মধ্যে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৫৪, যা ২০২৩ সালে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৭৩-এ এবং ২০৩৫ সালে এটি ৫ হাজার ৭১৬-এ পৌঁছাতে পারে।

ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ফুসফুস ক্যান্সারের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী সরাসরি ধূমপানের সঙ্গে সংযুক্ত হলেও, এখন ক্রমেই বেশি সংখ্যক ধূমপান না করা ব্যক্তিও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্র বা পরিবেশে ক্যান্সারসংক্রামক উপাদান, বায়ুদূষণ এবং রেডন গ্যাসও ঝুঁকির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ফুসফুস ক্যান্সার বেলজিয়ামে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্যান্সার, যা দেশটিতে প্রতি পাঁচজন ক্যান্সার আক্রান্ত মৃত্যুর একজনের জন্য দায়ী।

২০২৩ সালের ক্যান্সার রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, সকল রোগীর ৬৫ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে রোগ শনাক্তের সময় অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। এই তথ্য প্রমাণ করে, ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধ, আগেভাগে শনাক্তকরণ এবং উন্নত চিকিৎসার গুরুত্ব কতটা বেশি। চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নতির ফলে ফুসফুস ক্যান্সারে পাঁচ বছরের মধ্যে বেঁচে থাকার অনুপাত বেড়েছে। ২০০৪-২০০৮ সময়কালে এটি ছিল ১৫ শতাংশ, ২০১৯-২০২৩ সালে নারীদের ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে।