ইউরোপে সম্প্রতি শখের বসে বিদেশি প্রজাতির পিঁপড়া সংগ্রহের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে আফ্রিকা থেকে অবৈধ উপায়ে আনা হচ্ছে এসব পিঁপড়ার কলোনি, যার ফলে ইউরোপের পরিবেশ ও অবকাঠামোয় গুরুতর হুমকি দেখা দিয়েছে। আফ্রিকার দেশ কেনিয়াতে আদালতে সম্প্রতি চোরাচালান কাণ্ডে সহস্রাধিক পিঁপড়াসহ বিশেষ ক্যাপসুল নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করতে বারবার উপস্থাপিত হচ্ছে।

২০২৫ সাল থেকেই ইউরোপজুড়ে পিঁপড়া চোরাচালানের নানা ঘটনা বাড়তে শুরু করেছে। এগুলো বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে তুলে আনা হচ্ছে, ফলে জীববৈচিত্র্য আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে রানী পিঁপড়ার অবৈধ কেনাবেচা নতুন কলোনি গঠনের মাধ্যমে সাভানার মতো পরিবেশ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ইউরোপের তরুণ সমাজের মধ্যে কাচের ট্যাঙ্কে পিঁপড়া লালন-পালনের প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। আফ্রিকান পিঁপড়াগুলোর উচ্চ মূল্য থাকায় এগুলো শুধু ই-কমার্স নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিক্রি হচ্ছে।

চোরাচালানকারীরা আইনি ফাঁকফোকর কাজে লাগাচ্ছেন, কারণ বেশিরভাগ পিঁপড়া এখনো আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্ন প্রাণীর তালিকাভুক্ত নয়; ফলে এ ধরনের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলসহ মধ্য ইউরোপের কয়েকটি স্থানে চোরাখাত পিঁপড়ার উপদ্রব থেকে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগে নানাবিধ গোলযোগ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি একাধিক সম্মেলনে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও বিদেশি এই প্রজাতিগুলো ইউরোপের আবহাওয়ায় দ্রুত স্থায়ী হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা পিঁপড়া চোরাচালান রোধে নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপযুক্ত আইন ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।