বেলজিয়ামে চলতি বছরে আপেল ও নাসপাতি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য হারে পতন ঘটেছে। দেশটির শতাধিক উৎপাদকের তথ্যের ভিত্তিতে কৃষি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এবছর ১৬৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম আপেল ও ৩৬৪ মিলিয়ন কিলোগ্রাম নাসপাতির ফসল তুলতে পারার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উভয় ফলের ক্ষেত্রেই উৎপাদন গত পাঁচ বছরের তুলনায় অনেকটা কম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বছরের শুরু থেকে দীর্ঘদিনের খরা ও বৈরি আবহাওয়া—বিশেষ করে শিলাবৃষ্টি—ফল উৎপাদনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। শুধু আপেল উৎপাদনই নয়, বিগত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় এখানে ২২ শতাংশ কম ফসল পাওয়া যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, চাষাবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাওয়া। ২০২০-২১ মৌসুম থেকে আপেল বাগানের আয়তন প্রায় এক চতুর্থাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি চলতি মৌসুমে শিলাবৃষ্টির কারণে আরও ক্ষতি হয়েছে এবং বাজারে এবার তুলনামূলক কম আপেল পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, এবার উৎপাদিত আপেলের বড় একটি অংশ শিল্পখাতে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

নাসপাতি উৎপাদনেও একইরকম অবস্থা দেখা যাচ্ছে। ১০,৬১৯ হেক্টর জমিতে চাষ করে বেলজিয়ার চাষিরা এসব ফল থেকে ৩৬৪ মিলিয়ন কিলোগ্রাম ফল পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরম ও পানির সংকটের কারণে ফলের আকৃতি কিছুটা ছোট হলেও স্বাদে তেমন পরিবর্তন আসবে না।

শুধু বেলজিয়াই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশেও ফল উৎপাদনে কমতির ধারা দেখা যাচ্ছে। ইউরোপে আপেল উৎপাদন এবার স্বাভাবিকের তুলনায় ১১ শতাংশ এবং নাসপাতি ৭ শতাংশ কম হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া, উৎপাদক সংগঠনগুলো বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা, শ্রমিক সংকট, প্রশাসনিক বিধিনিষেধের চাপ এবং ইইউর সীমিত আর্থিক সহায়তার মতো নানামুখী সমস্যায় কৃষকেরা চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।